সূরা ফাতিহার ফজিলত ও আমল

সূরা ফাতিহার ফজিলত ও আমল
সূরা ফাতিহার ফজিলত ও আমল


সূরা ফাতিহার ফজিলত

সুরা ফাতিহা পবিত্র কুরআনের প্রথম সুরা। আল্লাহ তায়ালা এই সুরায় বান্দার করনীয় বিষয়ে জানিয়েছেন। এ সুরার গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে একাধিক বর্ননা রয়েছে। এর আমলের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।।

মোল্লা আলী কারাই (রহ.) বলেন সূরা ফাতিহার অক্ষর শব্দ পড়াতে যেমন শেফা আছে তেমনি লেখাতেও শেফা আছে। যেকোন ধরনের রোগ চাই দ্বীনি হোক কিংবা পার্থিব, অনুভব্যোগ্য হোক বা না হোক সব কিছু এ সূরা পড়া বা লেখার বরকতে আল্লাহর ইচ্ছায় আরোগ্য হবে। (মিরকাতুল মাফাতিহ)

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্নিত একা হাদিসে এসেছে, কয়েকজন সাহাবি এক গোত্রে এলেন। গোত্রের লোকেরা তাদের কোনো মেহমানদারি করলনা। হঠাৎ ওই গোত্রের নেতাকে সাপে কাটে। তখন তারা এসে বলল, আপনাদের কাছে কি কোনো ঔষধ আছে?

তারা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ আছে। তবে তোমাদের আমাদের মেহমানদারি করতে হবে। আমরা প্রচন্ড ক্ষুধার্ত। তারা মেহমানদারি করতে রাজি হলো। এ ছাড়া আমরা তাদের কাছে এক পাল বকরি চাইলাম। তখন একজন সাহাবি উম্মুল কুরআন অর্থাৎ সূরা ফাতেহা পড়ে মুখে থুথু জমা করে সে ব্যক্তির ক্ষতে মেখে দিলেন। ফলে বিষ নেমে গেলো এবং সে সুস্থ হয়ে গেলো।

সাহাবিরা খাওয়া-দাওয়া করে নবী করিম (সা.) -এর কাছে বকরি সহ ফিরে এলেন। তারা রাসূল (সা.) -এর কাছে জানতে চাইলেন তাদের এধরণের কাজ ঠিক হল কি না। নবী (সা.) শুনে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, ঠিক আছে বকরিগুলো নিয়ে যাও এবং তাতে আমার জন্যও  একটি অংশ রেখে দিও। (বুখারি, হাদিস ৫০০৬)

সূরা ফাতেহার আমল

সূরা ফাতেহাকে রাসূল সা. সমগ্র রোগের মহৌষধ। বহু হাদিসে সুরা ফাতিহার ফজিলত বর্নিত রয়েছে।

হজরত জাফর সাদেক (রা.) বর্ননা করেন, সুরা ফাতেহা ৪০ বার পাঠ করে পানির ওপর দম করে কোনো জ্বরে আক্রান্ত লোকের মখমণ্ডলে ছিটিয়ে দিলে এর বরকতে জ্বর দূরীভূত হয়ে যাবে।

ফজরের নামাজের সুন্নত ও ফজরের নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে ৪১ বার এ সুরা পাঠ করে চোখে ফুঁ দিলে চোখের ব্যথা দূর হয়।

শেষ রাতে এ সূরা ৪১ বার তেলাওয়াত করলে আল্লাহ তাআলা রিজিক বাড়িয়ে দেন।

এ সুরা ৪০ দিন নিয়মিত তেলাওয়াত করে পানিতে ফুঁ দিয়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে পান করালে আল্লাহ অসুস্থতা দূর করেন। (বুখারি, ৬/১৮৭)


Next Post
No Comment
Add Comment
comment url